PM Modi Breaking News Today | মন কি বাতের ১৩৯তম পর্বে বড় বার্তা | Vocal for Local
🔴 বড় খবর: মন কি বাত অনুষ্ঠানে দেশীয় পণ্যের ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্থানীয় কারিগরদের জন্য বিশেষ আবেদন
নয়াদিল্লি, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৯তম পর্বে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশীয় পণ্য ব্যবহার, স্থানীয় কারিগরদের সহায়তা, ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের অসাধারণ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। আসন্ন দীপাবলি ও ছটপুজোর আগে দেশবাসীকে স্থানীয় কারিগরদের তৈরি পণ্য কেনার জন্য বিশেষ আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী।

🇮🇳 ১২ বছরে পা দিল ‘মন কি বাত’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, বিজয়াদশমীর পবিত্র দিনে ১২ বছর আগে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তারপর থেকে এই অনুষ্ঠান দেশের সাধারণ মানুষের কাজ, সাফল্য, সাহস, নিষ্ঠা এবং সমাজের প্রতি তাঁদের অবদান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁরা নীরবে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। তাঁদের অনেকের কাজ সাধারণ মানুষের সামনে আসে না। ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে সেইসব মানুষের প্রচেষ্টা ও অবদানকে সম্মান জানানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
🛍️ ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এ বিশেষ গুরুত্ব
আসন্ন উৎসবের মরসুমে কেনাকাটার সময় দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ভোকাল ফর লোকাল’ উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের তৈরি পণ্য এখন বিদেশের বাজারেও পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত মানুষ নতুন সুযোগ পাচ্ছেন।
উদাহরণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিহারের পূর্ণিয়ার মাখনা এবং কর্ণাটকের কালবুর্গির অড়হর ডালের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিহারের মাখনা গ্রিসে এবং কর্ণাটকের অড়হর ডাল মালদ্বীপের বাজারে পৌঁছাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় পণ্যের গুণমানের পাশাপাশি আকর্ষণীয় প্যাকেজিংও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো প্যাকেজিং পণ্যকে ক্রেতাদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়াতে পারে।
🎨 মহারাষ্ট্রের আদিবাসী পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের আদিবাসী সম্প্রদায়ের তৈরি পণ্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
‘শবরী ন্যাচারালস’-এর মাধ্যমে মধু, মহুয়া, চিরৌঞ্জি এবং বাঁশজাত পণ্য বাজারে আনা হচ্ছে। এই পণ্যগুলির প্যাকেজিংয়ে আদিবাসী শিল্প ও ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই প্যাকেজিং জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ‘গুড ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদাহরণ সামনে এসেছে।
🌾 পাঞ্জাবে প্রাকৃতিক তুলা চাষের উদ্যোগ
কৃষিক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির পুনরুজ্জীবনের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।
পাঞ্জাবের মালওয়া অঞ্চলে ‘খেতি বিরাসত মিশন’ নামের একটি সংগঠন ‘নব-ত্রিঞ্জন’ উদ্যোগের মাধ্যমে জৈব ও প্রাকৃতিক তুলা চাষকে উৎসাহিত করছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য রাসায়নিকের ব্যবহার ছাড়া তুলা চাষের প্রসার ঘটানো। পাশাপাশি প্রাকৃতিক রঙের তুলা চাষের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি বয়ন প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ও গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের দক্ষতা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে এই উদ্যোগে বহু মহিলার কর্মসংস্থান ও জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
🌳 উত্তরাখণ্ডে হেভাল নদী বাঁচানোর উদ্যোগ
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলসম্পদ রক্ষার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
উত্তরাখণ্ডের তেহরি গাড়োয়াল অঞ্চলে হেভাল নদীর জলস্তর কমে যাওয়া এবং আশপাশের প্রাকৃতিক জলস্রোত শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীরা একসঙ্গে নদী ও জলসম্পদ রক্ষার উদ্যোগ নেন।
এই উদ্যোগে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বোঝান, সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
🧹 উৎসবের আগে পরিচ্ছন্নতার বার্তা
দীপাবলি ও ছটপুজোর আগে পরিচ্ছন্নতার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি দেশবাসীকে নিজেদের বাড়ি, পাড়া এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট ছোট ব্যক্তিগত উদ্যোগ একত্রিত হলে সমাজে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই উৎসব উদ্যাপনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার দিকেও প্রত্যেকের নজর দেওয়া উচিত।
🇮🇳 দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আবেদন
অনুষ্ঠানের শেষে স্থানীয় কারিগরদের তৈরি পণ্য কেনার ওপর আবারও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, উৎসবের কেনাকাটায় দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দিলে স্থানীয় কারিগর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা উপকৃত হবেন।
এর পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের বাজার বাড়বে এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, ‘মন কি বাত’-এর ১৩৯তম পর্বে দেশীয় পণ্য, স্থানীয় কর্মসংস্থান, ঐতিহ্যবাহী দক্ষতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দেশের সাধারণ মানুষের উদ্যোগ ও অবদানকে সামনে আনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে স্থানীয় কারিগরদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।